৩০ মে, ২০২২ ০৭:০৮ পিএম

রাজধানীর ড্রেনের ময়লা পানিতে করোনার জীবাণু: গবেষণা 

রাজধানীর ড্রেনের ময়লা পানিতে করোনার জীবাণু: গবেষণা 
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো কিছু কিছু পানিবাহিত রোগ আছে। ঢাকায় যেসব পুরোনো পাইপ লাইন ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর ড্রেনের ময়লা পানিতে এবং কর্দমাক্ত স্থানে করোনার জীবাণুর তথ্য মিলেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও ঢাকা ওয়াসার যৌথ এক গবেষণায়। সোমবার (৩০ মে) রাজধানীর ওয়াসা ভবনে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে ‘Survey of sewage and other contaminated surface water and treated water sources for the presence of SARS - Cov - 2 in and around Dhaka city’ শীর্ষক এই গবেষণার কাজ সম্পন্ন করে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন আইসিডিডিআর,বি'র এমিরেটাস সাইন্টিস্ট ড.সিরাজুল ইসলাম।

ঢাকা ওয়াসার পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট , নারিন্দা , বাসাবো পয়ঃ পাম্পিং স্টেশন,ঢাকা শহরের ভূ-পৃষ্ঠের পানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি পুকুর, মিরপুর মাজার পুকুর এবং বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর পানি নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ওয়াসার পরিশোধিত পানিতে ভাইরাসটির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে ঢাকা শহরের পুকুর ও নদীর পানিতেও মিলেনি করোনার জীবাণু। তবে পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেনের পানিতে এবং কর্দমাক্ত স্থানে করোনার জীবাণুর অস্তিত্ব মিলেছে। এসব মাধ্যমে ৫৬ শতাংশ ও ৫৩ শতাংশে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, ‘শুধুমাত্র গতানুগতিকভাবে এই গবেষণা চালানো হয়নি, প্রকৃত অবস্থা তুলে আনতেই গবেষণাটি চালিয়েছি। করোনার সময়ে জীবন ও জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হাত ধোঁয়ার বিষয়টি দেখেছি। একইসঙ্গে আমাদের পানিতে করোনার কোন অস্তিত্ব আছে কিনা? সেটি দেখতে আইসিডিডিআরবির সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণাটি করা হয়।আশার কথা হলো, আমরা নিশ্চিত হলাম ঢাকা ওয়াসার পানিতে করোনার জীবাণু নেই।’

তবে করোনার সঙ্গে অন্যান্য কোন ভাইরাস যাতে ওয়াসার পানিতে না থাকে সেই ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এখনো কিছু কিছু পানিবাহিত রোগ আছে। ঢাকায় যেসব পুরোনো পাইপ লাইন ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। একটা এলাকায় যদি ২ হাজার মানুষ থাকে, সেখানে ২-৪ ইঞ্চি লাইন বসানো হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে ২০ হাজার লোক হয়ে যায়। তাই, এসমস্ত এলাকা চিহ্নিত করে তেমন পাইপ লাগাতে হবে। ওয়াসা যে পানি পরিশোধন করে সেটা শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু যে পাইপলাইন দিয়ে যায়, সেগুলোতেই সমস্যা হয়ে থাকে। একইসঙ্গে জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক